মূলভাব: কঠিন কোনো কাজ একক দায়িত্বে সম্পন্ন চেষ্টা না করে অনেক লোকের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়াই উত্তম। তাতে কাজ যেমন সহজ হয় তেমনি হয় দ্রুত। ফলে সময় ও শ্রম উভয়েরই সাশ্রয় ঘটে । সম্প্রসারিত ভাব: আদিম যুগে মানুষ পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গুহায় বসবাস করতো। সে কারণে তারা নানা প্রতিকূলতার মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়। তারা বুঝতে পারে, সমাজবদ্ধ ও দলবদ্ধ মানুষের শক্তি অনেক বেশি। পরে তারা নিরাপত্তার প্রশ্নে ও প্রয়োজনের তাগিদে গড়ে তোলে সমাজ। একটি কঞ্চিকে সহজে ভাঙা গেলেও দশটি কঞ্চি একত্রিত করে তাকে ভাতা যায় না। একতার শক্তি অপরিসীম। লাঠি যখন পৃথক পৃথকভাবে লোকের হাতে হাতে থাকে তখন তা এত হালকা বিবেচিত হয় যে বহনকারীর পক্ষে লাঠি বহনের স্বতন্ত্র কোনো কষ্টের কথাই মনে জাগে না। কিন্তু দশজনের লাঠি যদি একজনের হাতে বহন করার জন্য দেওয়া হয় তখন তা একটা বোঝা সদৃশ মনে হয়। একজনের জন্যে যা বোঝা, দশজনের জন্যে তা কোনো সমস্যাই নয়। ক্ষুদ্র কীট মৌমাছি, পিপীলিকা দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিপক্ষকে আঘাত করে থাকে। দেশবাসী ও সৈন্য সেনাপতিদের মধ্যে অনৈক্যের কারণে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা পরাজিত হয় বৃটিশ সৈন্যদের কাছে। একতা সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে 'তোমরা বিচ্ছিন্ন হইও না একতাবদ্ধ হয়ে থাকো। যে কোনো দুরূহ কাজে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। জীবনের বাস্তব ক্ষেত্রেও এ কথার সত্যতা অনুমিত হয়। পৃথিবীতে যা কিছু বড় ধরনের কাজ সমাপ্ত হয়েছে তার পেছনে বহুজনের পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা রয়েছে। কোনো একক প্রচেষ্টায় তা সম্ভব হয় নি। আজকাল বড় বড় মিল, কল-কারখানায় এ কারণেই শ্রম বিভাগের উদ্ভব হয়েছে। বৃহৎ কাজটাকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করে সকলেই তাতে। অংশগ্রহণ করে। এভাবে বহুজনের প্রচেষ্টায় কাজটা সুন্দরভাবে শেষ হয়। কিন্তু বহুজনের প্রচেষ্টায় যে কাজটি সহজ মনে হয়। একক প্রচেষ্টায় তা করা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাক বাহিনীর প্রথম আঘাতে বাঙালিরা ক্ষতিগ্রস্ত, পর্যুদস্ত ও বেসামাল হয়ে পড়ে। কিন্তু পরে সমস্ত বাঙালি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একযোগে কাজ করেছিল বলে তারা নিরুৎসাহিত হয়নি। বরং পূর্ণ উদ্যমে অমিত তেজে কাজ করেছিল। অবশেষে সফলতা আসে এ জাতির। একাকী কাজ না করে দশজনকে নিয়ে করলেই পরাজয়ের লজ্জার আগাম ভাবনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কেননা সবাই মিলে কাজ করতে গিয়ে হেরে গেলে লজ্জার, লজ্জা দেওয়ার ও ভর্ৎসনা করার কেউ থাকে না।
বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ হলো বাংলা ভাষার দুটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। বাংলা সাহিত্য হলো বাংলা ভাষায় রচিত কবিতা, উপন্যাস, নাটক, গল্পসহ সৃজনশীল ও মননশীল রচনার সমষ্টি, যার সূচনা দশম শতাব্দীতে 'চর্যাপদ' এর মাধ্যমে। অন্যদিকে, বাংলা ব্যাকরণ হলো এমন একটি শাস্ত্র বা বিজ্ঞান, যা বাংলা ভাষার গঠন, প্রকৃতি, ধ্বনি, শব্দ ও বাক্যের নিয়ম-কানুন বিশ্লেষণ করে ভাষার শুদ্ধ রূপ ও প্রয়োগ শেখায়।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?